বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কিশোরগঞ্জে হাওরের অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের স্বপ্ন ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে লালমনিরহাটে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুূদপুর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমাগত লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকগাছায়” পানি সংলাপ” অনুষ্ঠিত দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত শরণখোলায় বজ্রপাতে চার গরুর মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে ২শ’ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান সালথার আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ খান গ্রেপ্তার কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের ন্যায় সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট জনদের এমপির নির্দেশনা উপেক্ষা করে খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা বিআইডব্লিউটিসি’র দুর্যোগের পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জের বরাম হাওরে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের বাঁধ ভাঙার দায় কার? প্রশাসন আর প্রকৃতির রোষে সর্বস্বান্ত হাওরবাসী ডিসি সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে ফুলবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বালু বোঝাই ট্রলি দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ড্রেন সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন কাউখালীর আশোয়া গ্রামটি নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে কাউখালীর সন্ধ্যা নদীতে কোস্টারের ধাক্কায় ফেরি ক্ষতিগ্রস্ত, ট্রলার ডুবি জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু মতলব উত্তর পাঁচগাছিয়ায় দারুল উলুম মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নদীতে বৃদ্ধ নিখোঁজ—দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা ও চারিকারু প্রর্দশন: গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙে মুখর প্রত্যন্ত জনপদ ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন সালথায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ পালিত মে দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লিফলেট বিতরণ মাদারগঞ্জে ৫শ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক-২ র‍্যাব-১৩ এর পৃথক অভিযানে ২৪৪ বোতল মাদকদ্রব্যসহ আটক, গ্রেপ্তার-৫

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, ভোলায় নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো দিশেহারা

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা,চরফ্যাশন॥
সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

চাল, ডাল, পেয়াজ, চিনি, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতিতে ভোলায় গ্রাম-গঞ্জের নিম্ন আয়ের পরিবাগুলো মহা সংকটে ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা। দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে গ্রাম-গঞ্জের সাধারন মানুষ ক্ষুব্ধ।
এ অবস্থায় নেই সরকারী ভাবে বাজার মনিটর করার কোন ব্যবস্থা। আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যে যার তম করে পণ্যের মূল্য নির্ধারন করছেন। অন্যদিকে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির দায় নিতে নারাজ খুচরা বিক্রেতারা। তারা বলছেন, আড়তদারেরা পণ্য মজুদ করছে বলেই দাম বাড়ছে। প্রায় কয়েক মাস ধরেই লাফিয়ে লাফিয়ে, দফায় দফায় লাগামহীন ভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারি, ফলমূল, চিনি, লবণ, গম, আটা, রুটিসহ ওষুধপত্র ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্যের দাম। শুধু তাই নয় বরং নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ গুলোর প্রিয় খাবার ডিম। সেই ডিমের দাম আগের তুলনায় দুই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়জমিন বিভিন্ন বাজার গুরে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ যে চালের কেজি ক্রয় করতেন ৪০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা, যে ডাল কেজি ছিল ৮০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা, যে চিনি কেজি ছিল ৭০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা, যে তৈল লিটার ছিল ৮০ তা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা, যে পেয়াজ কেজি ছিল ৩০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা, যে মুরগীর ডিমের হালি ছিল ৩৫ কাটা তা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা, যে মুরগী (বয়লার) কেজি ছিল ১২০/১৩০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ১৭০ টাকা, যে মুরগী (কক) কেজি ছিল ২৪০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা, শিশু খাদ্য দুধ, চা পাতার দামও বৃদ্দি পেয়েছে দ্বিগুন। এমন শাকসবজিতে ১০/১৫ টাকা বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার মুদি ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বলেন, এমন কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই যার দাম কোম্পানি বৃদ্ধি করেনি। যেমন গত এক মাস আগে যে হুইল সাবার বিক্রি করেছি ২৫ টাকা এখন কোম্পানি তার দাম বৃদ্ধি করে ৩০ টাকা করেছে, এমন অধিকাংশ পণ্যের দাম তাদের ইচ্ছামত বৃদ্ধি করছে। আমরা খুচরা বিক্রেতা কি করবো আমাদের যেমন ক্রয়-তেমন বিক্রি। আমাদের কিছু করার নেই আড়ৎ মালিকরা দাম বৃদ্ধি করেই চলছেন। ফলে, প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষরা একটু ডাল-ভাত কিনে খাবে সে উপায়ও নেই। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষজনের জীবন যাপন করতে অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটু ছোট্ট ধারণা দেওয়া যাক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিন মজুর খোরশেদ আলম একটি মুদি দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার কাছে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, বাজারে এখন আগুন লেগেছে। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করছি।
কথা হয় স্কুল শিক্ষক কামরুন নাহারের সাথে তিনিও বললেন তার অভিযোগ নিত্যয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ে, তারও আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন মিল নেই। প্রতি মাসে বেতনের টাকা খরচ করেও ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হয়। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশের বলেন, এমন কোন নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্য নেই যার মূল্যবৃদ্ধি পায়নি। যে যার মত করে মালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা খুচরা বিক্রেতা কি করার।
সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। চালের দাম বেড়েছে সেটা না হয় মেনে নিলাম কিন্তু ডিম আর কাঁচা সাক-সবজি খাওয়া এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। আগে ভর্তা আর পোড়া মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে নিতাম। এখন সেটারও উপায় নেই। তাই বলা যায় যে, নিম্ন আয়ের মানুষের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অধিকাংশ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো অনাহারে অর্ধাহারে জীবনপাত করছেন।
ফলে বলা যায় যে, গরিব আছে মহা সংকটে আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকুলান করার কোনো পথ তাঁরা এখন খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ গ্রাম-গঞ্জের মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন মিল নেই। মানুষ জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পাবে যখন দেখবে তার আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল পাচ্ছে। অন্যথায় সেটি কখনো সম্ভব হবে না। আমাদের দেশের একটি বৃহৎ অংশ ছাত্র সমাজ। যাদের মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগই উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে যান। আর এখানে গিয়ে থাকতে হয় মেস কিংবা ভাড়া বাসায়। যদিও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু সেটি সংখ্যার তুলনায় খুবই অনেক কম। ফলে তাদের মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকা ছাড়া উপায় নেই। অধিকাংশই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফলে তারা তাদের পড়াশোনা এবং নিজ খরচ পরিচালনা করার জন্য টিউশনি কিংবা যেকোন পার্ট টাইম জব করে থাকে। কিন্তু তাদের এই সীমিত আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন মিল নেই। কারণ বর্তমান সময়ে দেশের বাজারের দ্রব্য মূল্যের যে অবস্থায় এতে ব্যাচেলরদের জীবন যাপনে কঠিন বাস্তবতার মুখোঁমুখি হয়ে দাড়িয়েছে। বলা যায় অনাহারে অর্ধাহারে জীবনপাত করছেন তারাও।
এতে করে ছাত্র সমাজ বা শিক্ষার্থীরা তাদের পড়া শোনা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে তাদের বিলাসবহুল শহরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিনিয়ত গ্রামের সাধারন মানুষগুলো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছে। হয়তো আমাদের অধিকাংশ মানুষের সামর্থ্য আছে বলে ক্রয় করতে পারছি। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই তাদের কি অবস্থা ?। তাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?। এসব বিষয়গুলো কি কখনো আমরা ভেবেছি?। মুখে আমরা যতই বলি দেশ-গ্রামে উন্নত হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আসলে কি দেশ উন্নত হচ্ছে?। শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের মানুষ এসব উন্নয়নের বুলি দিয়ে লাখ থেকে কোটিপতি বনে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জের যাতায়াত ব্যবস্থা বা আনুষঙ্গিক যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো উন্নত সাধন করলেই কেবল উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠা যাবে না। বরং গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় তাও করতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল দেশ উন্নত হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যথায় মুখে যতই বলি দেশ উন্নত হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেশ উন্নত নয়। তাই গ্রাম-গঞ্জের নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষেরা ডাল-ভাত খেয়ে একটু সুখ শান্তিতে বাঁচতে চায়। একটু স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চায়। তাদের সকল কাজে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পেতে চায়। আর এসব কিছু বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে বিশেষ নজর দিতেই হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর সকল নিত্যপণ্যের মজুদ মনিটরিংয়ের আওতায় এনে সরকারিভাবে মজুদ বাড়াতে হবে। নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইসাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসৎ ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটেরদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পণ্য সংকটের অজুহাতে আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা যেন পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের দেশে কৃষজ উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। নয়তো এভাবেই চলতে থাকলে কিছু দিনে পর মানুষের জীবন যাপন করতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হবে। তাই সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ দেশটা সবার। এই দেশ ও দেশের জনগন বাঁচানোর দায়িত্বও সবার।


এই বিভাগের আরো খবর