ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের একটি রাস্তার উপর রোমা বেগম(৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তার স্বামী টোটন মাতুব্বর। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ওই গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
শনিবার (২৬ আগস্ট)রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের রোমা বেগম ভাঙ্গা উপজেলার পাথরাইল গ্রামের টোটন মাতুব্বরের স্ত্রী ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর চানপুট্টি গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায় , ঢাকায় ফার্নিচারের ব্যবসা করেন টোটন মাতুব্বর। শনিবার রাতে ঢাকা থেকে রোমার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে বাড়ির পাশের রাস্তার উপর ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রোমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে নিহত রুমা বেগমের মামা মোঃ বাবুল মিয়া জানান, আমার ভাগ্নি রোমা বেগম ঢাকার উত্তর বাড্ডায় স্বামীর সঙ্গেই থাকতেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। রোমার স্বামী টোটন মাতুব্বর কয়েক মাস আগে আরেকটি বিয়ে করেছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আমার ভাগ্নিকে নির্যাতন করত, চলে যেতে বলতো,যৌতুকের টাকার দাবি করতো। প্রায়ই তাকে টাকা-পয়সাও দেওয়া হতো। চাহিদা মোতাবেক টাকা না পেলেই তাকে নির্যাতন করত। আমার ভাগ্নি রোমাকে ওর স্বামী টোটন মাতুব্বর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঢাকা থেকে লাশ এনে গ্রামের বাড়ির পাশে রাস্তার উপর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে টোটন মাতুব্বরের সঙ্গে তার বাড়িতে যোগাযোগ করলে মোবাইল নাম্বারটা বন্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিয় মজুমদার জানান, খবর পেয়ে রোমা বেগমের স্বামীর বাড়ির পাশে একটি রাস্তার উপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহতের গলায় দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে হত্যা না আত্মহত্যা তা বলা সম্ভব নয়। টোটন মাতুব্বর ঢাকার উত্তর বাড্ডায় ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।তদন্ত পূর্বক বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।