আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমায়নি সরকার। ফলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবিআর)। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অর্থবছরের শেষ ৪ মাসে গড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে এনবিআরকে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের অংশের লক্ষ্যমাত্রাও একই থাকছে। রাজস্ব সংগ্রহে না কমলেও সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটি গত ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায় করেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৪ মাসে এনবিআরকে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরকে গড়ে প্রতি মাসে ৪৩ হাজার ৫০০ কোট টাকা সংগ্রহ করতে হবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত গতি আনতে আদায় সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। বৈঠকে রাজস্ব আদায়ে গতি না আসার কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, আমদানি কমায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলাসহ যাদের কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে, তা আদায়ে মনোযোগী হওয়া এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদায় বাড়ানো যেতে পারে।
অর্থবছরের বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা অর্জন সম্ভব না হলেও কাছাকাছি থাকবে বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দু-তিনবারে কর পরিশোধ না করে একবারেই দিয়ে থাকে। তাই অর্থবছরের শেষ কয়েক মাসে রাজস্ব সাধারণত বেশি আদায় হয়। তা ছাড়া অর্থবছরের শেষ দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার তাড়া থাকে। এ কারণেও শেষ দিকে রাজস্ব আদায় বাড়ে।