বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে নির্বাচন-পরবর্তী কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুপুর ( ০২- ০৩-২০২৬),সোমবার,পৌর শহরের ঈদগাহ মাঠে বেলা ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মীসভায় উপজেলা ও পৌরসভা, ওয়ার্ড এবং কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য, ভোট কক্ষে ধানের শীষের এজেন্ট সহ বিএনপি ও অঙ্গ – সহযোগী সংগঠনের চার সহশ্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মী সভার পর সন্ধ্যায় একই স্থানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স-এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হালুয়াঘাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং এলাকার শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দুপুরে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয় তুলে ধরেন। নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে লাগামহীন মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হয়েছে। পাশাপাশি অবাধে টাকার ছড়াছড়ি, ভোট কেনাবেচা এবং প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। ভোট গণনার সময় ধানের শীষ প্রতীকের ব্যালট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বান্ডেলে দেওয়ার মতো ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। এছাড়া বিএনপির সাবেক এক এমপি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।কর্মী সভা ও ইফতার মাহফিল ঘিরে ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নেতৃবৃন্দ দলীয় ঐক্য অটুট রেখে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে ধানের শীষ পরাজিত হয়নি; বরং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র , কারচুপি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ফলাফল বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না এবং কোথায় কীভাবে অনিয়ম হয়েছে তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন , “আমি বিশ্বাস করি না স্থানীয় প্রশাসন কারসাজির সাথে জড়িত ছিলো । প্রমাণিত হলে কারও ছাড় হবে না। তবে নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের ভূমিকাকে জনগণ রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছে ।”
তিনি বলেন , অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার কারণে বেশ কিছু আসনে স্থানীয়ভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে । না হলে , অন্ততঃ আরও ৩০ আসন বিএনপি পেতো । তিনি বলেন , “ময়মনসিংহ-১ আসনে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালানো হবে । এ বিষয়ে পার্টির অনুমোদন পাওয়া গেছে । অচিরেই এ বিষয়ে পার্টি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে । “
তিনি অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহ -১ আসনে ধানের শীষ প্রতীককে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দিয়ে আলোকিত জনপদ গড়ার স্বপ্নকে আঘাত করা হয়েছে। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন কখনো নিভে যেতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন , আলোকিত হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া গড়ার স্বপ্ন কেউ হত্যা করতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করেন , নির্বাচনের পর তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে । ৫ আগস্টের পর যারা পলাতক ছিলেন , নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ছত্র ছায়ায় ফিরে এসে তাফালিং শুরু করেছে , হামলা ও হুমকি দিচ্ছে । আওয়ামী আমলেও বিএনপি কর্মীদের ওপর যারা হামলার সাহস পায় নাই , স্বতন্ত্র এমপির ছত্র ছায়ায় বিএনপি সরকার গঠনের পরও তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে ।
প্রিন্স বলেন- “জনগণের প্রকৃত ভোটে নির্বাচিত কেউ এ ধরনের হামলা করতে পারে না,”। অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে পালাতক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করেছেন এবং তারা এখন তার ছত্রছায়ায় বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ষড়যন্ত্র ও উসকানিমূলক মিথ্যা অপপ্রচার এবং হুমকি তার কর্মী-সমর্থকদের সহিংসতায় উৎসাহিত করছে। নির্বাচনের শুরু থেকেই উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হলেও শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে বিএনপি পাল্টা জবাব দেওয়া থেকে বিরত ছিল এবং এখনও বিরত থাকছে – উল্লেখ করেন তিনি।
এসব হামলার বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা হামলাকারীদের উৎসাহিত করছে। “সব কিছুই নজরদারিতে রাখা হচ্ছে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের তৃণমূলের নিরপরাধ কর্মীদের ওপর এ ধরনের অত্যাচার সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, “আমরা আইনকে সম্মান করি বলেই প্রতিটি ঘটনা লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানাচ্ছি। আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছি না। কিন্তু হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে । অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না ।”
সভায় তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও মনোবল বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান ।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, হতাশ না হয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে । তারেক রহমানের সরকারের সাথে জনগণের সেতু বন্ধন বিএনপিকেই গড়ে তুলতে হবে । তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বিএনপিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন , তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অবশ্যই বিএনপির সহযোগিতা নিতে হবে । বিএনপি এই সহযোগীতা করতে প্রস্তুত । তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দল থেকে বহিস্কৃতরা তারেক রহমানের সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না ।
তিনি বলেন , শীঘ্রই নির্বাচনে পারফমেন্স অনুযায়ী ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করা হবে । বিকেল ৫.৩০ মি. ইফতার মাহফিলে প্রদত্ত বক্তব্যে এমরান সালেহ প্রিন্স ইফতার মাহফিলে স্বাগত জানিয়ে বলেন , আজকের এই অয়োজন নিছক শুধু আনুষ্ঠনিকতা নয় , বরং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের বৈষম্যহীন দেশ গড়ার সংগ্রামে হালুয়াঘাটের মানূষের দৃঢ় প্রত্যয়ের অংঙ্গীকার । তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি বদ্ধ পরিকর । তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে কৃষক কার্ড , ফ্যামিলি কার্ড , কর্ম সংস্থান , বন্ধ মিল কারখানা চালুসহ সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকারের যুগান্তকারী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে ।
তিনি বলেন , ষড়যন্ত্র করে আমার বিজয় কেড়ে নেয়া হলেও , আলোকিত হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া গোড়ার কাফেলাকে পরাজিত করা যাবে না । তিনি বলেন , সত্যের জয় অবধারিত। সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করে সাময়িকভাবে জয় ধামাচাপা করা যাবে , চূড়ান্ত বিচারে বিজয়ের পতাকা উড়বেই । তিনি দল মত নির্বিশেষে সকলকে তারেক রহমানকে সহযোগীতা করার আহবান জানিয়ে বলেন তারেক রহমান সকলের জন্য নিরাপদ দেশ উপহার দেবেন ।
কর্মী সভায় হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় অন্যান্যের মধ্যে পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ , সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যন আবদুল হামিদ , সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম ময়না , জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নীলু , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী , আলী আশরাফ , আবদুল হাই, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ , মিজানুর রহমান , শফিকুর রহমান , ইঞ্জিনিয়ার ইঊনূস আলী খান , পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সুলতান মহিউদ্দিন , ড. ইমন উদ্দিন , মশিউর রহমান ,
হুমায়ূন কবীর , অনোয়ার হোসেন , তাজিকুল ইসলাম , হামিদুর রহমান , বিএনপি নেতা সাবেক অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন , জহিরুল ইসলাম বাবু , লুৎফর রহমান , রমজান আলী , সায়েদুর রহমান , আবুল হাশিম মেম্বার, নুরুল ইসলাম , সৈয়দুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
কর্মী সভার পর ইফতার মাহফিলে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম ,বিশিষ্ট আলেম হযরত মওলানা নূর হোসাইন , বিগত নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মওলানা তাজুল ইসলাম , হালুয়াঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলমীর আমির মোয়াজ্জেম হোসেন মাষ্টার , হালুয়াঘাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক কাজিম উদ্দিন , উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা , হালুয়াঘাট আমদানী রফতানী গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম , উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাতেম আলী , প্রেসক্লাবের ওপর সভাপতি সুমন আহমেদ , দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা সহ হালুয়াঘাটের ব্যবসায়ী ,শিক্ষক , সাংবাদিক , বিশিষ্ট ব্যক্তি , বিভিন্ন শ্রেণী – পেশার সংগঠণের নেতৃবৃন্দ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।