দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে জামালপুর জেলাতেও। তবে প্রশ্ন উঠেছে—বিগত বছরের মতো এবছরও সমান পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন এই সংকট সৃষ্টি হলো?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলায় মোট ১৭টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। সরকারি বরাদ্দে কোনো ঘাটতি না থাকার দাবি করা হলেও অধিকাংশ পাম্পে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক মোটরসাইকেল ও যানবাহনচালক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে ভিন্ন চিত্রও সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখালেও বাইরে অবাধে কালোবাজারিতে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এসব তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমিতির সভাপতি নেওয়াজ আমীন দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। ফলে বর্তমান সংকটের পেছনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।