অন্য দলগুলো যেখানে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সামনের নির্বাচনে জয়ী হতে তৎপর। কোনো কোনো দল যেখানে নির্বাচন নিয়ে এখনো ভাবনার মধ্যে সময় পার করছে, সেখানে এ দলটি অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে কাজকর্ম। কারো ওপর ভর করে নয়, একা নির্বাচন করতে ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নামের তালিকাসহ জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি, তাদের অর্থের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশদ একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণা-গণসংযোগ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন প্রার্থীরা। জামায়াত প্রার্থীদের বায়োডাটা (জীবনবৃত্তান্ত) সংগ্রহ করার পাশাপাশি তাদের আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনে দলটি ‘ডামি প্রার্থী’ দিলে তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেদনটির নথি নম্বর উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, এটি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের প্রার্থী বাছাই কাজ চলছে। বাছাই শেষ হলে দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালিকায় থাকা একাধিক জামায়াত প্রার্থী জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে দিনরাত সাংগঠনিক সফর, ওয়াজ-মাহফিলসহ নানা ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ জানানো হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
এদিকে সারাদেশে সম্ভাব্য ৩’শ প্রার্থীর মধ্যে ২৫, কুড়িগ্রাম-১ আসনে আজিজুর রহমান স্বপন, ২৬, কুড়িগ্রাম-২ আসনে হাবিবুর রহমান, ২৭, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে প্রফেসর আব্দুল জলিল ও ২৮, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নুর আলম মুকুল এর নাম গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ২৬, কুড়িগ্রাম-২ আসনে হাবিবুর রহমানের নাম প্রকাশ হওয়ায় এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মহান জাতীয় সংসদের ২৬, কুড়িগ্রাম-২ আসন। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে অর্ন্তবর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। আগামী ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রুপ রেখা প্রকাশ হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে সামনে তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। অন্যান্য দলের ন্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরকে আগাম সর্তক বার্তা দিয়ে মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬, কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হাবিবুর রহমান জোরালো ভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমাদেরকে এখনও উপর থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। বিভিন্ন পত্রিকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ হয়েছে। তা কতটা সঠিক, জানা নেই।