দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় বেশ কিছু দিন ধরে কঙ্কাল চুরি অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বালাপুকুর কবরস্থান থেকে ৭টি কবর হতে কঙ্কাল উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠে।
এর আগে গত ১০আগস্ট শুক্রবার একই ইউনিয়নের তুলসীপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান হতে ১১টি কঙ্কাল উধাও হয়েছে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এই মাসে তিনবার এই ধরেনের চুরির ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার গভীর রাতে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বালাপুকুর কেন্দ্রিয় কবরস্থানে কঙ্কাল চুরির প্রস্তুতিকালে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এরআগে এই কবরস্থান হতে একবার এবং পাশ্ববর্তী তুলশীপুর কেন্দ্রিয় কবরস্থান হতে দুইবার কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর জেলার নকলা থানার আদর্শগ্রাম টাঙ্গাইলা পাড়ার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ লালচান (৩০), একই গ্রামের বাবর হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুস সোবাহান ওরফে সফু (২৮), মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে মোঃ ফরিদ ওরফে শেখ ফরিদ (২৪), ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার আলী নগর গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে মোঃ সেরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজুল ইসলাম (২৭) এবং একই জেলার কোতয়ালি মডেল থানার অষ্টধর গ্রামের মোঃ তাজিম উদ্দিন ওরফে আজিজুল ইসলামের ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু (২৫)।
এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে বীরগঞ্জ থানায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রেসরিলিজ করেন বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খোদাদাদ সুমন।তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আটক ৫জন চৌধুরীহাট বালাপুকুর কেন্দ্রিয় কবরস্থান, তুলশীপুর কেন্দ্রিয় কবরস্থানসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন কবরস্থান হতে মৃত ব্যক্তির কঙ্কাল/ হাড়গোড় চুরির সাথে জড়িত। তারা কঙ্কাল চুরি চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা পুরাতন কবরগুলি টার্গেট করে ২/৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কঙ্কাল চুরি করে। চুরিকরা কঙ্কালগুলি রংপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৬হাজার ৫শত হতে ৭হাজার ৫শত টাকায় বিক্রয় করে। আটক আসামীদের নিকট হতে কঙ্কাল চুরির কাজে ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসময় বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহিনুর ইসলামসহ জেলা ও উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।