লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় চাষীরা ফুলকপির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে হতাশ হয়ে তাদের ফসল ক্ষেতে নষ্ট করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিক উৎপাদন ও পাইকারী বাজারে চাহিদার অভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাট সদর ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে হতাশা ভরা মুখ নিয়ে আসল টাকা তোলার চিন্তায় মগ্ন চাষীরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফুলকপি চাষে ব্যয় হয়েছে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২-৩ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচও তুলতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে তারা ফসল তুলে ফেলার পরিবর্তে ক্ষেতে নষ্ট করে ফেলছেন অনেকে।
লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম, মজিদুল ও হুজুর আলী জানান, ‘তাদের প্রত্যেকেই কয়েক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করে লোকসান গুণেছেন। বাজারে ফুলকপি নিলে গাড়ি ভাড়াই ঠিকমতো ওঠেনা। দাম না থাকায় ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে অনেকের ফুলকপি। এছাড়া এলাকার অনেক কৃষক ক্ষোভে গরুকে খাওয়াচ্ছেন চাষকৃত ফুলকপি। কেউ কেউ ট্রাক দিয়ে চাষ করে নষ্ট করে ফেলছেন ক্ষেতে।
চাষীরা জানান, বড় শহর বা অন্যান্য বাজারে এই সবজি পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব রয়েছে। ফলে ফুলকপির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।এতে করে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ও জানিয়েছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তা, ড. মোঃ সাইফুল আরিফিন, উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর লালমনিরহাটের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই সমস্যা সমাধানে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি।এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় এবারে ফলন তুলনামূলক অনেক বেশি। ভরা মৌসুমে একই সময়ে ব্যাপক আকারে ফুলকপির চাষ করায় দাম কম ।এ বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন আগাম এবং মৌসুমের শেষে চাষাবাদ করার।এ বছরে ফুলকপি ও ব্যাপক আকারে চাষাবাদ হওয়ায় বাজারে সবজির কোন ঘাটতি নাই।যার কারনে সাথে দেশে ফুলকপিতে লোকশানে মুখে পড়েছেন কৃষকগন।