ইসমাইল খন্দকার, সিরাজদিখান থেকে:
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ছত্রাকজনিত রোগে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পঁচে যাচ্ছে পান পাতা। শীত আসলেই ছত্রাকের কারনে পানের পাতা লালচে হয়ে ঝরে যায়। শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে রক্ষা পেতে এখন বোরজ চাষিরা চারপাশে পলি কাগজ ও উপরে খর দিয়ে আবদ্ধ করে রেখেছে।
জানা যায়, শীতের আগে বাজারে পানের সরবরাহ বেশি থাকায় দামও কম ছিলো। বর্তমানে শীত আশায় ছত্রাক জনিত কারণে পানের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ কারনে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পান। পানের বোরজকে শীত থেকে রক্ষার জন্য চারো পাশে পলিথিন কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে ও উপরে খর দেয়া হয়েছে। তীব্র শীতে পানের বোরজে ছত্রাকে আক্রান্ত করেছে ।
আরো জানা যায়, এ উপজেলার সেচি পান একসময় পাকিস্তানে রং তৈরির জন্য নিত। রপ্তানি না থাকায় এখন সে পানের চাষ হয় না। এখন আমাদের এখানে চালতাগোটা ও আদিপান এখন বিক্রি হচ্ছে বাজারে। সিরাজদিখান বাজারের পান ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে পান বিক্রি করি। পানের বোরজগুলো ভালো ভাবে না ঢাকার কারনে শীতে পান ঝরছে আর এ কারনে বাজারে পানের দামও বাড়ছে। আগে যেখানে এক বিরা (৮০ পিস) পান ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতো বর্তমানে পান সংকটের কারণে প্রতি বিরা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট বড় হিসেবে পানের দাম কম বেশি হয়।
দক্ষিন তাজপুর গ্রামের স্বপন দাস বলেন, প্রতি বছর শীত আসলে পানের পাতা লালহয়ে ঝড়ে যায়। এবারো তার বেতিক্রম হয় নাই। তবে কয়েকদিন শীত একটু বেড়েছে। পাতা ঝড়াও বেরেছে। তবে নিয়মিত কীটনাষক দিয়ে যাচ্ছি। পাইকারি হাটে এক বিড়া পান শীত মৌসুমে বিক্রি করি ১০০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা ও শীত মৌসুম ছাড়া ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করি। ৩৫ বছর ধরে রোপন করা পানের একি গাছ থেকে বছরে ২ বার চারা রুপান্তরিত করি। সেখান থেকে আবার নতুন পাতা গজায়। তবে শীত মৌসমে পানপাতা কম বাড়ায় সংগ্রহ কমকরা যায় কিন্তু গরম আসলে বেশি সংগ্রহ করা যায়। প্রতিবছর বোরজে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। কোনো ধরনের দুর্যোগ না আসলে ৬ ঘন্ডা জমি থেকে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকে। পানের বোরজে বাঁশের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। শীতে খরচ বেড়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহসিনা জাহান তোরণ বলেব,শীত মৌসুমে পানের গ্রোথ কমে যায় এবং ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে শীত মৌসুমে। এ জন্য আমরা নাটিভো জাতীয় ছত্রাকনাশক কৃষককে স্প্রে করার পরামর্শ দেই। তাহলে পানের পাতায় যে দাগ রোগটা আছে সেটা দমন হবে এবং পানের গ্রোথ ভালো হবে। ছত্রাকনাশক স্প্রে করার ১৫ দিনের মধ্যে পান সংগ্রহ করা যাবে না।