নিজের লিচু বাগান পাহাড়া দেওয়ার জন্য টংঘর তৈরি করেন মো. আজিজুল মোল্যা (৬২) নামে এক কৃষক। তবে ওই টংঘরে থেকে ঠিকমতো বাগান পাহাড়া দিতে পারতেন না কেউ।
কারণ রাত হলেই ওই টংঘরে মাদক সেবনের আড্ডা বসাতেন সাকিল মুন্সি নামে এক মাদকসেবী। শুধু মাদক সেবন নয়, সাকিল ও তার সহযোগিতা মাঝে মাঝে বাগানের লিচুও পেড়ে খেতেন। একপর্যায় ধৈয্যের বাধ ভেঙে গেলে মাদক সেবন ও লিচু বাঁধা বাধা দেন আজিজুলের ছেলে আকরাম। এসময় আকরামকে মারধর করে তারা। পরে বিষয়টি নিয়ে জানতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকসেবী সাকিল ও তার ভাই তুষার স্থানীয় একটি বাজারের ভেতরে শতাধিক মানুষের সামনে বৃদ্ধ আজিজুলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত আজিজুল ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মানো মোল্যার ছেলে। এদিকে আজিজুলের নিহত হওয়ার পর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় অন্তত ১৩টি গরু। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফুলবাড়িয়া গ্রামে কৃষক আজিজুলের একটি লিচুর বাগান রয়েছে। ওই বাগানের লিচু পাহাড়া দিতে সেখানে একটি টংঘর দেন আজিজুল। রাত হলেই ওই টংঘরে মাদকের আড্ডা বসাতেন পার্শ্ববতী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে সাকিল মুন্সি ও তার সহয়োগিরা। মাদক সেবনের পর তারা লিচু পেড়ে খেতেন। এতে বাঁধা দেয় আজিজুলের ছেলে আকরাম। এ সময় ক্ষুব্দ হয়ে আকরামকে মারধর করে সাকিল ও তুষার।
ঘটনার পর সন্ধ্যায় আজিজুল স্থানীয় ফুলবাড়িয়া বাজারে গিয়ে সাকিল ও তুষারের কাছে তার ছেলে আকরামকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা তর্কের জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আজিজুলের উপর হামলা চালায় তুষার ও সাকিল। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলকে বেরধড়ক মারপিট করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এদিকে আজিজুলের নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রথমে হামলকারীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে হামলাকারীদের পক্ষের লোকজন নিহত আজিজুলের পক্ষের কয়েক জনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১৫টি বসতঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় লুট করা হয় ১৩টি গরু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে লুট হওয়া ১৩টি গরুর মধ্যে ১১টি গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবলুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেন, ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই এলাকার পরিবেশ স্বভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার পর ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। লুট হয় ১৩টি গরু। এর মধ্যে ১১টি গরু আমরা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। বাকিগুলো উদ্ধারে কাজ চলমান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করেনি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানতে পেরেছি। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।