লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবীর ব্যতিক্রমী বক্তব্য সামাজিক গণ মাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জনগণের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও গঠনমূলক বার্তা প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে ওসি নূরনবী বলেন, **”আমাকে স্যার বলতে হবে না, আমি জনগণের গোলাম। জনগণ আমাদের বেতন দেয়, তাই তারা মালিক, আমরা কর্মচারী। থানায় মামলা করতে কোনো টাকা বা দালালের প্রয়োজন নেই। কেউ টাকা দাবি করলে সরাসরি আমাকে জানান।”
তিনি আর ও বলেন আমরা কাজ করি ৩ (তিন) পি নিয়ে যেমন (১)পুলিশের – পি, (২) পাবলিকের -পি, (৩) প্রেসের – পি এই তিন পি হচ্ছে ভাই-ভাই। এরা জনগণের কথা বলে আমাদের পথ চলা এই ৩ জনে সঙ্গে।
সাধারন জনগণকে পুলিশকে ভয় পেয়ে থানায় আসতে চায়না তাই দুষ্টু বা দুর্বৃত্তদের / মাদকসেবন বৃদ্ধি পেয়েছে। ওসি উদ্বোধন কর্মকর্তার কাছে দাবি করে বলেন আমরা বিভিন্ন মামলায় তদন্ত করে দেখছি –অভিযোগ কারির কথা আর কাগজে মিল পাওয়া যায় না তাই আসামি ছার পেয়ে যায়। তাই যদি জেলা প্রশাসক বা ইউএনও অথবা পুলিশ উদ্বোধন কর্মকর্তা’র মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত দুজন কম্পিউটার অপারেট বাংলাদেশের প্রতিটি থানার গেটে অথবা গোল ঘরে বসার ব্যবস্থা থাকত অভিযোগকারী বা ভিকটিমের কথা শুনে আবেদন লিখে থানায় জমা দিয়ে গেলে আইনগত ফাঁক থাকতো না পুলিশের জন্য সুবিধা বা কাজের গতি বৃদ্ধি হতো।
ওসি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় অভিযোগকারী আশার গতি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন। ১. থানা গুলোয় ১ (এক) জন টি বয় থাকা দরকার, ২. থালা গুলোতে আপ্রায়নের বিলের ব্যবস্থা করা দরকার। এই ৩ টি কাজ আইজিপি মহোদয় বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আমার দাবি। এটি হলে আমার মনে হয় থানাগুলো জনবান্ধব হবে ওসি বা অন্য পুলিশ সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্য থেকে অব্যাহত থাকবে।
“মাদক সমাজের শত্রু। যদি কেউ সন্দেহজনকভাবে ধনী হয়ে যায়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে পুলিশকে জানান। জনগণের সাহায্য ছাড়া অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। ভালো মানুষ বেশি বেশি থানায় আসুন, যাতে অপরাধীরা আতঙ্কে থাকে।”
ওসির এই জনবান্ধব বক্তব্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম মহোদয়ের নজরে এলে, তিনি ১ মার্চ এক শুভেচ্ছা পত্রে ওসি নূরনবীর কাজের প্রশংসা করেন। তিনি লিখেন, “জনগণের আস্থা অর্জনে আপনার প্রচেষ্টা, সেবা করার প্রত্যয় ও পেশাদারত্বের মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনার নেতৃত্বে লালমনিরহাট সদর থানা সারা দেশের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এ প্রত্যাশা করি।
আইজিপির শুভেচ্ছা পত্র পেয়ে ওসি নূরনবী আরও অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ওসির এমন উদ্যোগ জেলা পুলিশের জন্য গর্বের। আইজিপি মহোদয়ের শুভেচ্ছা বার্তা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবসময় নিয়োজিত থাকবো।” ওসি নূরনবীর এই মানবিক ও সাহসী বার্তা পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ।