জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঝিনাই নদীতে গোসল করতে নেমে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও এক শিশু। শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কুলসুম (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
কুলসুম চর ভাটিয়ানি আমতলী গ্রামের আজাদ মিয়ার মেয়ে। এর মাধ্যমে সহোদর ভাই-বোনসহ মোট চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলো। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে বৈশাখী (১০) নামের আরেক শিশু।
মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে ঘটনার পর প্রথম দিন তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে শনিবার সকাল ১১টার দিকে কুলসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ বৈশাখীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে মাদারগঞ্জের সিধুলী ইউনিয়নের ঝিনাই নদীতে ছয় শিশু একসঙ্গে গোসল করতে নামে। তাদের মধ্যে ইয়াসিন নামের এক শিশু সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অপর পাঁচজন নদীতে ডুবে যায়।
পরে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই দিনই মাদারগঞ্জের চর ভাটিয়ানি মধ্যপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার দুই সন্তান পলি আক্তার (১২) ও আবু হোসেন (৮), এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার বাউশী গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে সায়েবা আক্তার (৮) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিনশেষে কুলসুম (৮) ও বৈশাখী (১০) নিখোঁজ থাকায় সন্ধ্যা নেমে আসলে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পরদিন সকালে পুনরায় অভিযান চালিয়ে কুলসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৈশাখীর খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।