সুফি সেন্টার বাংলাদেশ চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট সুফি চিন্তক, গবেষক ও লেখক খাজা ওসমান ফারুকী রচিত ‘সুফি সাইকোলজি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে “সুফিতত্ত্ব,সমকাল ও সমাজচিন্তা প্রেক্ষিতঃ খাজা ওসমান ফারুকীর চিন্তা,দর্শন ও কর্মযাত্রার এক যুগ”শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শনিবার ১৩ জুন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুলতান আহমদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড.আবদুস সবুর খান এর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ শেখ সাদী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,খাজা ওসমান ফারুকীর চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম কেবল আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়;বরং ব্যক্তি,সমাজ ও সভ্যতার নানা সংকটের প্রেক্ষাপটে তা নতুন চিন্তার দুয়ার উন্মোচন করে। ‘সুফি সাইকোলজি’ গ্রন্থটি আত্ম-উপলব্ধি, মানসিক ভারসাম্য এবং মানবিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ওষখাইনীরী নূরীয়া বিষু দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন নূরী আল কুরাইশী।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম চৌধুরী,চবি’র ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.নূরে আলম, চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম,চবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুর রহমান,চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসহাক।
বিশেষ আলোচক হিসেবে মূল বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক এবং ডেইলি ক্যাপিটাল ভিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক, এস এম আবুল বরকত আকাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সুফি সাইকোলজি’ গ্রন্থটি আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও ইসলামী আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন রচনা করেছে। যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সহ আধ্যাত্মিকতার প্রতি আনুগত্য আরও বাড়বে। তিনি সকল প্রকার মতপার্থক্যের উর্ধ্বে গিয়ে সুফিজমের নীতিকে ধারণ করার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন,চট্টগ্রাম কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী,মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির,সহযোগী অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ,সিটি কলেজ, পীরজাদা শেখ আবু মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ফারুকী,নায়েবে সাজ্জাদানশীন,চরণদ্বীপ দরবার শরীফ,ড.শিব প্রসাদ শূর, ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন,অ্যাডভোকেট আলী আব্বাস,অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড.মাওলানা খলিলুর রহমান,অধ্যক্ষ, ফায়জুল বারী ফাজিল মাদ্রাসা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য পীর-মাশাইখ,শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক,সাহিত্যিক,গবেষক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গোলটেবিল বৈঠক ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড.আবদুস সবুর খান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন,খাজা ওসমান ফারুকী সমকালীন বাংলা ভাষায় সুফি জ্ঞানচর্চাকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছেন। তাঁর রচনায় আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান,মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য সমন্বয় পরিলক্ষিত হয়। বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান মানসিক অস্থিরতা,নৈতিক অবক্ষয় এবং আত্মিক শূন্যতার প্রেক্ষাপটে সুফি জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক চর্চা নতুনভাবে গুরুত্ব লাভ করছে। ‘সুফি সাইকোলজি’ গ্রন্থে মানবমনের বিকাশ,আত্মশুদ্ধি, আত্মসচেতনতা,আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ এবং আধুনিক মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামী আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের একটি সৃজনশীল সংলাপ উপস্থাপিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য আলোচকগণ বলেন, খাজা ওসমান ফারুকী দীর্ঘদিন ধরে সুফিতত্ত্ব, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও কর্মযাত্রা সমকালীন সমাজে নৈতিকতা,সহনশীলতা, মানবকল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে ‘সুফি সাইকোলজি’ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং গ্রন্থটির বিষয়বস্তু,গবেষণামূল্য ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। একই সঙ্গে খাজা ওসমান ফারুকীর বহুল আলোচিত গ্রন্থ ‘সুফি মেডিটেশন’, ‘সুফিনামা’, ‘কুন ফায়াকুন’ আত্মার বিজ্ঞান সহ তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের দর্শন, চিন্তা ও সমাজভাবনা নিয়েও আলোকপাত করা হয়।