কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে এক ভয়াবহ ‘ভেজাল কারখানায়’ চলছে রমরমা বাণিজ্য। ‘আল কারীম কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে চা, সফট ড্রিংকস ও ভোজ্য তেল। বিস্ময়কর তথ্য হলো, যে ঘরে মানুষের খাদ্য প্রস্তুত হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে মাছ ও মুরগির খাদ্য (ফিড)।
সরেজমিনে বাবুটিপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই একটি গোপন কারখানায় চলছে নিষিদ্ধ কর্মযজ্ঞ। মেঝের ওপর খোলা অবস্থায় ছড়ানো-ছিটানো বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার ও ফ্লেভার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পামওয়েলের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে ‘নূরে মদিনা’ নামে ভুয়া সরিষার তেল বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া, চোরাই পথে আসা ভারতীয় চালের বস্তা খুলে ১ কেজি ওজনের প্যাকেটে ভরে ‘চিনিগুঁড়া চাল’ হিসেবে বিক্রি করে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল চা ও সফট ড্রিংকস পাউডার তৈরির অনুমতি পেলেও তারা একই ছাদের নিচে ডজনখানেক অনুমোদনহীন পণ্য উৎপাদন করছে। অথচ আইন অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য অনুমোদিত স্থানে অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম নিজের অপকর্ম ঢাকতে কাগজপত্রের দোহাই দিলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র বা হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। তার ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদও গত দুই বছর আগে শেষ হয়ে গেছে।
কুমিল্লা বিএসটিআই-এর ফিল্ড অফিসার ইকবাল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খাদ্যপণ্যের পাশে পশুখাদ্য রাখা জঘন্য অপরাধ। তারা মাত্র দুটি পণ্যের অনুমোদন নিয়ে বাকিগুলো অবৈধভাবে চালাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ভেজাল কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।