সুনামগঞ্জে সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতা নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (কেএসবিএবি) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত নতুন বিতর্কিত নীতিমালার কারণে দেশব্যাপী প্রায় ৪৪ হাজার অনুমোদিত খুচরা সার বিক্রেতার সনদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই পেশায় নিয়োজিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বক্তারা বলেন, খুচরা বিক্রেতারা কেবল ব্যবসায়ী নন, তারা দেশের প্রায় ৫ কোটি কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষকদের বাকিতে সার সরবরাহ করে কৃষি উৎপাদন সচল রাখেন তারা। বক্তাদের মতে, এই খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থা বন্ধ করে দিলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ কৃষকরা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি নীল মিয়া আকাশ বলেন:”আমরা অনেকেই ব্যাংক ঋণ এবং দোকান ভাড়া নিয়ে এই ব্যবসা করছি। হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশে হাজারো পরিবার এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক।”
তিনি আরও বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং দেশের কৃষিখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ২০২৫ সালের এই সার নীতিমালা অবিলম্বে স্থগিত বা পুনর্গঠন করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই বৈষম্যমূলক নীতিমালা বাতিল করা না হয়, তবে সাধারণ বিক্রেতারা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন।
খুচরা সার বিক্রেতা সংগঠনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রইসুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন, শাল্লা উপজেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী, ব্যবসায়ী নেতা মানিক মিয়া প্রমুখ।
কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েকশ খুচরা সার বিক্রেতা অংশ নেন। তারা স্লোগানে স্লোগানে নতুন নীতিমালাকে ‘কৃষক ও ব্যবসায়ী বিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।