বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাঁধ ভাঙার দায় কার? প্রশাসন আর প্রকৃতির রোষে সর্বস্বান্ত হাওরবাসী ডিসি সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে ফুলবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বালু বোঝাই ট্রলি দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ড্রেন সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন কাউখালীর আশোয়া গ্রামটি নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে কাউখালীর সন্ধ্যা নদীতে কোস্টারের ধাক্কায় ফেরি ক্ষতিগ্রস্ত, ট্রলার ডুবি জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু মতলব উত্তর পাঁচগাছিয়ায় দারুল উলুম মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নদীতে বৃদ্ধ নিখোঁজ—দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা ও চারিকারু প্রর্দশন: গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙে মুখর প্রত্যন্ত জনপদ ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন সালথায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ পালিত মে দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লিফলেট বিতরণ মাদারগঞ্জে ৫শ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক-২ র‍্যাব-১৩ এর পৃথক অভিযানে ২৪৪ বোতল মাদকদ্রব্যসহ আটক, গ্রেপ্তার-৫ জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো ডিমলায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ঝালকাঠিতে চিংড়ি রেনু জব্দ : ৫ হাজার টাকা জরিমানা শেরপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় আইন সহায়তা দিবস পালিত অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার প্রাপ্তির সুযোগ বঞ্চিত না হয় : প্রধানমন্ত্রী নান্দাইলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর ডিও‌ লেটারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উন্নতিকরণ সরিষাবাড়ীতে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে স্ত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হওয়ায় ঝালকাঠির ভীমরুলীতে প্রার্থনা সৌদিতে হজ পালন করতে গিয়ে মাদারগঞ্জের শিক্ষকের মৃত্যু কিশোরগঞ্জে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া কাউখালীতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ

বিরোধপূর্ণ বিষয়ে মুমিনের যা করণীয়

অনলাইন ডেস্ক :
বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

ঢাকাপ্রতিদিন অন্যান্য ডেস্ক : ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ। কখনো কখনো কোনো ইবাদতে একাধিক সহিহ সুন্নাহর পদ্ধতি পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় ইখতিলাফে তানাওউ অর্থাৎ বৈধ বিকল্পভিত্তিক ভিন্নতা, যা বিরোধ নয়, বরং শরিয়তের প্রশস্ততা। তবে পূর্বসূরি মুসলিম মনীষীরা আমাদের শিখিয়েছেন, যে এলাকায় বা যে মসজিদে যে পদ্ধতি প্রচলিত, সেখানে তা-ই বহাল রাখা উচিত। ভিন্ন সুন্নাহ প্রচার করে সাধারণ মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করা বা ফিতনা সৃষ্টি করা অনুচিত।

ইমাম ইবনে আব্দিল বার (রহ.) বলেন, ইমাম মালেকের বর্ণনার ভিত্তিতে মদিনায় রাফয়ে ইয়াদাইন কেবল নামাজের শুরুতে করা হতো এবং সেখানকার উলামায়ে কিরাম প্রচলিত পদ্ধতির বিরোধিতা করতেন না। (আল-ইসতিযকার : ৪/১০১)

শায়খ বিন বাজ (রহ.) বলেন, যদি কোনো মুস্তাহাব আমল (যেমন—রাফয়ে ইয়াদাইন বা জোরে আমিন) দ্বারা মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা ছেড়ে দেয়াই উত্তম। রাসুল (সা.)-ও কাবা শরিফকে ইবরাহিম (আ.)-এর ভিত্তির ওপর নির্মাণ করেননি, কারণ তাতে কুরাইশের নব-মুসলিমদের মনে বিভ্রান্তির আশঙ্কা ছিল। (মাজমূউল ফাতাওয়া : ২৯/২৭৫-৩৭৪)

এ থেকেই শিক্ষা পাওয়া যায়, শরিয়তসম্মত হলেও যদি কোনো আমল ফিতনার কারণ হয়, তবে তা গোপন রাখা বা না করা শ্রেয়।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘এক এলাকায় এমন একটি মত প্রচলিত, যা শরিয়তসম্মত এবং অন্য একটি মতও শরিয়তসম্মত; তবে যদি ভিন্ন মতটি চর্চা করা ফিতনার কারণ হয়, তাহলে ওই মত প্রকাশ না করাই উত্তম।’ (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা : ২/৪৭) বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয় ও সমাধান

ইখতিলাফি সুন্নাহর চর্চা নিয়ে বর্তমান সমাজে যে উত্তেজনা, বিভাজন ও অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা দ্বিন ও উম্মাহ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। এই বাস্তবতায় কিছু বাস্তবসম্মত করণীয় নির্ধারণ করা জরুরি, যা আমাদের মধ্যকার ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে এবং সুন্নাহর সঠিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবে।

১. ফিকহি বহুমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা

বর্তমান বিভ্রান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো খণ্ডিত জ্ঞান।

তাই মুসলিমদের উচিত ইলমে দ্বিন অর্জন করা, বিশেষ করে চার মাজহাবের ইজতিহাদ ও ইখতিলাফের মূলনীতি বোঝা। কোরআন বলছে, ‘তোমরা যদি না জানো, তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।’ (সুরা : আন-নাহল, আয়াত : ৪৩)
ইলম ছাড়া দাওয়াত শুধু নয়, বরং নিজের আমলও বিপদের মুখে পড়ে।

২. সুন্নাহর দাওয়াতে হিকমত ও বাস্তবতা বিবেচনা

সুন্নাহর আমল প্রচার করতে গেলে সংশ্লিষ্ট মসজিদ, সমাজ ও লোকদের মানসিকতা বুঝে ধীরে ধীরে, সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলে ধরাই হলো সুন্নাহর প্রকৃত দাওয়াত। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫) উগ্রতা, বিতর্ক ও হঠকারিতার মাধ্যমে নয়, বরং কোমলতা ও ধৈর্য দিয়েই মানুষকে সুন্নাহর দিকে টানতে হবে।

৩. ভিন্ন মত ও মাজহাব চর্চাকারীদের সম্মান বজায় রাখা

যিনি সহিহ হাদিস অনুসারে ভিন্ন কোনো সুন্নাহ পালন করছেন, তাঁকে কটাক্ষ নয়, বরং শ্রদ্ধা করাই হচ্ছে ইখলাস ও উম্মাহর ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ। হাদিসে এসেছে, ‘এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই, সে তার প্রতি জুলুম করে না, তাকে একা ফেলে দেয় না।’ (সহিহ বুখারি : ২৪৪২)

এই ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজে সুন্নাহভিত্তিক ভিন্নতাকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে পরিণত করতে পারে।

৪. ইমাম ও আলেমদের দায়িত্বশীল ভূমিকা

মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় আলেমদের উচিত কোনো ভিন্ন সুন্নাহর প্রচারে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে তা সম্মিলিত পরামর্শে, ধৈর্যের সঙ্গে সামলানো। প্রয়োজনে কৌশলে ব্যক্তিগতভাবে বুঝিয়ে দেয়া, যাতে জামাতের ঐক্য বিনষ্ট না হয়।

৫. মিডিয়া ও দাওয়াতি প্ল্যাটফরমে সংযম

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাই ‘সুন্নাহ প্রচার’-এর নামে বিদ্বেষমূলক ভিডিও, ফতোয়া ও তির্যক ভাষায় মন্তব্য ছড়ান, যা নবী (সা.)-এর নম্রতা ও দাওয়াতি পদ্ধতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। দায়বদ্ধ ও শরিয়তসম্মত দাওয়াতের পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

৬. সামগ্রিকভাবে উম্মাহর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেয়া

ফরজ ও ওয়াজিব ইবাদতের তুলনায় সুন্নাহর এমন ইখতিলাফি বিষয়গুলোতে উম্মাহর ঐক্যকে প্রাধান্য দেয়ার নীতিই ছিল সাহাবাদের। ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন, ‘ঐক্য ও সংহতি, বিভাজন ও মতবিরোধের চেয়ে উত্তম।’ (মাজমূউল ফাতওয়া : ২২/৪০৭)

পরিশেষে আমরা যদি সত্যিই সুন্নাহর অনুসারী হতে চাই, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই চরিত্র ও হিকমতের অনুসরণ করতে হবে, যার মাধ্যমে উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়, বিভক্ত নয়।
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর

 


এই বিভাগের আরো খবর