সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ব্যাপক ওঠানামাকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্ত পথে তেল পাচারের ঝুঁকি বেড়েছে। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পাচারকারী চক্র অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সুনামগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) সকাল থেকেই সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিশেষ করে সন্দেহভাজন পরিবহনগুলোতে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে।
সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলসি (LC) পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, বাংলাদেশগামী পাথর ও কয়লা বোঝাই বড় ট্রাক এবং ডাম্পারগুলো পণ্য খালাস করে পুনরায় পার্শ্ববর্তী দেশে ফিরে যাওয়ার সময় অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে। এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রতিটি খালি ট্রাক ও ডাম্পার সীমান্ত অতিক্রমের আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন”আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র যাতে কোনোভাবেই দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে এবং অবৈধভাবে তেল পাচার করতে না পারে, সেজন্য আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, যেসব রুট দিয়ে পাচারের আশঙ্কা বেশি, সেখানে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্টের মাধ্যমে বিজিবির তৎপরতা চব্বিশ ঘণ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। দেশের সম্পদ রক্ষায় বিজিবি কোনো প্রকার আপস করবে না।
বিজিবির এই তড়িৎ ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সীমান্তে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের অপচয় ও পাচার রোধ করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।