কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ই বাড়ী–হায়দ্রাবাদ ইয়াকুব আলী ভূইয়া সড়কের প্রবেশমুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিজের মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্ত একে কার্যত ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত করেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ব্রিজের মাঝখানে বড় অংশ ভেঙে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এই বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করলেও স্থায়ী কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে সিমেন্ট দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা দ্রুতই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
এই সড়ক দিয়ে আকবপুরসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষের জন্য এই ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি যাত্রাই যেন এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক শিমুল, বাছির ও শরীফ মিয়া বলেন, “প্রতিদিন ভয় নিয়ে ব্রিজ পার হই। অনেক সময় চাকা গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়, যাত্রীরা আহত হন। তবুও বিকল্প পথ না থাকায় এই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আকবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল একটি ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে।
দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ জানান, “ব্রিজটির সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”