চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসে এখন যেন বদলের হাওয়া। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, দালালের দৌরাত্ম্য ও জটিলতার অভিযোগ পেছনে ফেলে সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন দ্রুত ও সহজ সেবা।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভূমি অফিসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। প্রতিদিন অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করছেন তিনি। সেবা নিতে আসা মানুষদের অনেক সময় নিজেই ডেকে তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থা ও স্বস্তি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কাজ করা কঠিন ছিল। ছোট একটি কাজ করতেও ভোগান্তি পোহাতে হতো সাধারণ মানুষকে। এখন অনেকেই সরাসরি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সমাধান পাচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিভিন্ন জটিল নামজারি ও ভূমি–সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিও দ্রুত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
সেবাগ্রহীতা ইশতিয়াক মোহাম্মদ বলেন, তাঁর নানাবাড়ি আনোয়ারায় হলেও তিনি ঢাকায় থাকেন। একটি ভূমি–সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি বুঝে নিয়ে তাঁর আত্মীয়ের মাধ্যমে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আমাকে ঢাকা থেকে আর আসতে হয়নি। উনি খুব আন্তরিকভাবে বিষয়টি দেখেছেন। মানুষের সমস্যার কথা বুঝে সেবা দেন। আনোয়ারায় এমন একজন কর্মকর্তা খুব প্রয়োজন ছিল।”
আরেক সেবাগ্রহীতা ফাহিমা আক্তার বলেন, প্রথমবার ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই তাঁর কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানতে চান এবং একজনকে দিয়ে কাজের সহযোগিতা করেন।
ফাহিমা বলেন, “আমি দ্রুত কাজ শেষ করে ফিরতে পেরেছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা সাধারণ মানুষকে যেভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন, সেটি সত্যিই ভালো লেগেছে। সেবার জন্য এমন সৎ ও মানবিক কর্মকর্তা খুব প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা বলেন, “আমি এখানে মানুষের সেবা দিতে এসেছি। জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও সহজ ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করার চেষ্টা করেছি। অনেক মানুষ দালালের কারণে নানা সমস্যায় পড়তেন। এখন তাঁরা সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলে সমাধান পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমি–সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় মানুষ যেন নির্ভয়ে সরাসরি অফিসে আসে এবং কথা বলে। আমি জনগণের সেবার জন্যই এখানে দায়িত্ব পালন করছি।”