মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে এক প্রতিবেশী যুবকের লালসার শিকার হয়ে ১৮ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে প্রতিবেশী বকুল দেওয়ানের ছেলে সাব্বির। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভয়ে এতদিন মুখ খোলেনি ভুক্তভোগী কিশোরী। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন ও ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। পরবর্তীতে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
ভুক্তভোগী কিশোরী ভাঙা ভাঙা শব্দে জানায়, তার মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাব্বির তাদের ঘরে ঢুকে অন্তত তিনবার তাকে ধর্ষণ করেছে। এ কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এমনকি স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি অভিযুক্তের সাথে কিশোরীর বিয়ে দিয়ে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “গত কয়েকদিন আগে আমি ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন সাব্বির ঘরে ঢুকে আমার মেয়ের ক্ষতি করে। মেয়ে দৌড়ে এসে আমাকে সব জানায়। আমরা এখন দিশেহারা কার কাছে যাব বুঝতে পারছি না। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলা হয়েছে আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব্বিরের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।”